ত্বক পরিচর্যায় চালের গুড়ার ৫টি মাস্ক

ত্বক পরিচর্যায় চালের গুড়ার ৫টি কার্যকরী মাস্ক সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। ত্বক উজ্জ্বল করতে ও ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে চালের গুড়া এমন একটি প্রাকৃতিক উপাদান, যা যে কোনো ধরনের ত্বকেই ব্যবহার করা যায়। সাথে জানবেন, চালের গুড়া দিয়ে গ্লাস স্কিন পাওয়ার ফেসিয়াল সম্পর্কে।

ত্বক-পরিচর্যায়-চালের-গুড়া

বর্তমানে ত্বক সচেতন মানুষ মাত্রই চালের গুড়া ব্যবহার করে নিজের ত্বকের যত্ন নিতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। আপনিও যদি আপনার ত্বক উজ্জ্বল ও ফর্সা করতে, ত্বক থেকে দাগ ছোপ দূর করতে চালের গুড়া্র সহজ মাস্ক সম্পর্কে জানতে চান, তাহলে এই আর্টিকেলে কার্যকরী ৫টি মাস্ক সম্পর্কে জানতে পারবেন।পোস্ট সূচীপত্রঃ

তাহলে চলুন দেরি না করে ত্বক পরিচর্যায় চালের গুড়ার ৫টি মাস্ক সম্পর্কে জেনে নিন।

চালের গুড়া এবং বেসনের ফেসপ্যাক

চালের গুড়া এবং বেসনের ফেসমাস্ক সম্পর্কে প্রথমে জেনে নিন। চালের গুড়া ত্বকের মৃত কোষগুলোকে সরিয়ে ভিতর থেকে ত্বক পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। আবার বেসনকে প্রাকৃতিক ক্লিনজার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ত্বক পরিচর্যায় চালের গুড়া এবং বেসন মিশিয়ে আমরা ত্বকের জন্য দুর্দান্ত একটি মাস্ক তৈরি করে ব্যবহার করতে পারি।

এই মাস্কটি তৈরিতে আমাদের লাগবেঃ

  • ১ চা চামচ চালের গুড়া
  • এক চা চামচ বেসন
  • হাফ চামচ মধু
  • ২-৩ ফোঁটা লেবুর রস

প্রথমে চালের গুড়া এবং বেসন ভালোভাবে পরিষ্কার পানি দিয়ে মিক্সড করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি ইচ্ছে করলে গোলাপ জলও ব্যবহার করতে পারেন। এরপর দিতে হবে মধু, সাথে দুই তিন ফোঁটা লেবুর রস। সবগুলো উপাদান ভালোভাবে মিক্সড করে পরিষ্কার মুখে ভালোভাবে লাগিয়ে নিন।

ত্বকে ভালোভাবে এপ্লাই করার পর ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে দিন। এই মাস্কটি পুরোপুরি শুকানো যাবে না। মুখে মাস্কটি হালকা শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে আস্তে আস্তে সারা মুখে রাব করুন। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্কটি আপনি চাইলে সারা শরীরে ব্যবহার করতে পারবেন।

চালের গুড়া এবং হলুদের ফেসপ্যাক

ত্বক পরিচর্যায় চালের গুড়ার মাস্ক সম্পর্কে জানার এই পর্যায়ে জেনে নিন চালের গুড়া ও হলুদের ফেসপ্যাক সম্পর্কে। চালের গুড়া দিয়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে আমরা চালের গুড়া এবং হলুদের ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে পারি। চালের গুড়া এবং হলুদ দুইটাই প্রাকৃতিক উপাদান এবং আমাদের হাতের কাছে সহজে পাওয়া যায়।

 আমরা এই দুটি উপাদান আমাদের ত্বক উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্য কাজে লাগাতে পারি খুব সহজে। 

চালের গুড়া ত্বককে গভীরভাবে পরিষ্কার করতে এবং ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে সহায়তা করে থাকে। হলুদ আমাদের ত্বককে ফর্সা এবং দাগমুক্ত করতে সহায়তা করে। চালের গুড়া এবং হলুদের ফেসপ্যাকটি আমরা নিম্নোক্তভাবে তৈরি করতে পারি।

এই ফেসমাস্কটি  তৈরি করতে আমাদের লাগবেঃ

  • এক টেবিল চামচ চালের গুড়া
  • ২ টেবিল চামচ টক দই
  • হাফ টেবিল চামচ হলুদ গুড়া
  • এক টেবিল চামচ মধু

সবগুলো উপাদান ভালোভাবে মিক্সড করে পরিষ্কার ত্বকে এবং গলায় এপ্লাই করতে হবে। ত্বকে এই মিশ্রণটি ১৫ মিনিট রাখার পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। একবার ব্যবহারেই আপনার ত্বকের পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারবেন। এই ফেসপ্যাকটি  কোন পরিষ্কার কাঁচের জারে ফ্রিজে ১ সপ্তাহের জন্য সংরক্ষণ করে ব্যবহার করতে পারবেন।

চালের গুড়া এবং মসুর ডালের মাস্ক

ত্বককে জেল্লাদার করতে চালের গুড়া এবং মসুর ডাল দিয়ে তৈরি ফেসমাস্ক খুবই জনপ্রিয়। চালের গুড়ায় রয়েছে ত্বকের জন্য উপকারী বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান আর মসুর ডালে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, যা ফ্রি রেডিকেলে এর বিরুদ্ধে লড়াই করে। ফলে ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া রোধ হয়। এছাড়া ত্বকের যে কোন দাগ দূর করতেও সহায়তা করে থাকে।

এই ফেসমাস্কটি বানাতে যা যা লাগবেঃ

  • এক চা চামচ চালের গুড়া
  • এক চা চামচ মসুর ডালের গুড়া
  • পরিমাণ মতো কাঁচা দুধ
  •  হাফ চা চামচ মধু

সবগুলো উপাদান ভালোভাবে মিক্সড করে ৩ থেকে ৫ মিনিট রেখে দিতে হবে। কারণ এই সময়ের মধ্যে চালের গুড়া এবং মসুর ডালের গুড়া দুধের মধ্যে ভালোভাবে মিশে যাবে। এরপর মিশ্রণটি আবার ভালোভাবে মিশিয়ে নেয়ার পর যদি একটু ভারী মনে হয় তাহলে আর একটু দুধ দিয়ে মিক্সড করে ত্বকে ব্যবহারের উপযোগী করতে হবে। এখন মিশ্রণটি মুখে এবং গলায় সমানভাবে লাগিয়ে নিন।

ত্বক-পরিচর্যায়-চালের-গুড়া

এই মিশ্রণটি ত্বকে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রাখার পর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে দুইদিন আপনারা এই ফেসপ্যাকটি ব্যবহার করলে উপকার লক্ষ্য করতে পারবেন। তাই দাগমুক্ত ঝকঝকে ত্বক পেতে নিয়মিত এই ফেস মাস্কটি আপনারা আপনাদের ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। 

চালের গুড়ার ফেসপ্যাক তৈলাক্ত ত্বকের জন্য 

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য চালের গুড়া দারুণ উপকারী একটি উপাদান। চালের গুড়ার ফেসপ্যাক ব্যবহার করে ত্বকে আসতে পারে দারুণ জেল্লা। তৈলাক্ত ত্বকে চালের গুড়া ব্যবহারে অতিরিক্ত সিবাম বা অয়েল উৎপাদনে বাধা দেয়। এছাড়া চালের গুড়া ত্বকের ভেতর থেকে ময়লা, জীবাণু এবং তেল বের করে নিয়ে আসে ফলে ত্বক থাকে ব্রণ মুক্ত।

ত্বক পরিচর্যায় চালের গুড়ার মাস্ক বিশেষ করে তৈলাক্ত ত্বকের জন্য আমরা চালের গুঁড়ো দিয়ে সহজেই ফেসপ্যাক তৈরি করতে পারি। এই ফেসপ্যাকটি তৈরির জন্য আমাদের লাগবেঃ

  • এক চা চামচ চালের গুড়া
  • এক চা চামচ এলোভেরা জেল
  • হাফ চা চামচ মধু
  • এক চিমটি হলুদ গুঁড়া

সবগুলো উপাদান ভালোভাবে মিক্সড করে পরিষ্কার ত্বকে ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। ফেস প্যাকটি মুখে ১৫ থেকে ২০মিনিট রেখে আলতো ভাবে ম্যাসাজ করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য এই ফেসপ্যাকটি একটি দারুন জাদুকরি ফেসপ্যাক। একবার ব্যবহারেই আপনার ত্বকে পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারবেন।

চালের গুড়ার নাইট ক্রিম তৈরি করুন সহজে

চালের গুড়ার সাথে অল্প কিছু উপাদান মিশিয়ে আমরা ঘরে নাইট ক্রিম তৈরি করতে পারি সহজে। এ ক্রিমটি সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযোগী বিশেষ করে তৈলাক্ত ত্বকের জন্য খুবই ভালো একটি রাতে ব্যবহারের উপযোগী ক্রিম। ত্বক পরিচর্যায় চালের গুড়ার ফেস মাস্ক ব্যবহারের সাথে সাথে চালের গুড়া দিয়ে নাইট ক্রিম তৈরি করে ব্যবহার করতে পারি।

এই ক্রিম তৈরির জন্য আমাদের লাগবে চাল ধোয়া পানি। চাল ধোয়া পানি কিভাবে তৈরি করতে হয় আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়লে জানতে পারবেন।

আরো পড়ুনঃ  চুল পড়া রোধে মেথি ব্যবহারের উপকারিতা - নতুন চুল গজাতে মেথির ব্যবহার

এই ক্রিম তৈরির জন্য ২ চা চামচ চাল ধোঁয়া পানির সাথে নিতে হবে দুই চা চামচ ভালো মানের এলোভেরা জেল। সাথে দিতে হবে কয়েক ফোঁটা গ্লিসারিন। সবগুলো উপাদান ভালোভাবে মিশিয়ে কাচের কৌটায় সংরক্ষণ করতে হবে।

ফ্রিজে রেখে এই ক্রিমটি আপনারা ৭ দিন পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন। রাতে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে মুখে ক্রিম এপ্লাই করতে হবে। সকালে উঠে নরমাল পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেললেই পাবেন দাগ মুক্ত উজ্জ্বল ত্বক।

চালের গুড়ার ফেসিয়াল করে পান গ্লাস স্কিন

চালের গুড়া দিয়ে ত্বকে জেল্লাভাব আনতে চালের গুড়ার ফেসিয়াল হতে পারে একটি উপকারী নাম। কারণ এই ফেসিয়ালটি আমরা ঘরে বসে নিজেরাই করতে পারি। যারা নিজের ত্বক সচেতন তারা মাসে একবার ফেসিয়াল করতে পার্লারে যান, তারা এই ফেসিয়াল করতে পারেন বাড়িতে। এই ফেসিয়াল নিয়মিত করলে আপনি পাবেন ফর্সা ও উজ্জ্বল ত্বক।

বর্তমানে কোরিয়ানদের চালের গুড়া দিয়ে ফেসিয়াল অনেক জনপ্রিয়। আপনিও ঘরে বসে এই ফেসিয়ালটি করতে পারেন। আপনি যে কোন ত্বকের অধিকারী হোন না কেন এই ফেসিয়ালটি করতে পারেন নিশ্চিন্তে।

কারণ এই ফেসিয়াল নরমাল, তৈলাক্ত এবং শুষ্ক ত্বকের অধিকারী যারা সবার জন্যই উপযুক্ত একটি ফেসিয়াল। চালের গুড়া দিয়ে এই ফেসিয়াল করার জন্য আমাদের তিনটি ধাপ পার করতে হবে। তাহলে নিচে দেখে নিন চালের গুড়ার ফেসিয়াল সম্পর্কে বিস্তারিত।

ত্বক ক্লিনজিং করা

প্রথম যে ধাপটি নিয়ে আমরা আলোচনা করব তা হল ক্লিনজিং। আমাদের ত্বকে যে কোনো ধরনের ক্রিম, মেকআপ নিখুঁতভাবে বসানোর জন্য ত্বককে ভালোভাবে প্রথমে ক্লিন করে নিতে হবে। না হলে কোন প্রোডাক্টট ত্বকে ভালোভাবে  Absorb হতে পারবেনা। তাই  ফেসিয়ালের প্রথম ধাপে আমাদের ত্বক ক্লিনজিং করতে হবে।

আর এই ক্লিনজার হিসেবে আমরা ব্যবহার করব চালের পানি। চালের পানিতে রয়েছে ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই। ভিটামিন সি ত্বকে কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায় এবং উজ্জ্বলতা নিয়ে আসে। ভিটামিন ই আমাদের ত্বকে আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া চালের পানি ত্বকের পোরস গুলোকে মিনিমাইজ করতে সহায়তা করে থাকে।

এই ক্লিনজার তৈরির জন্য আমাদের লাগবে চালের পানি এবং সমপরিমাণ রোজ ওয়াটার। দুটি উপাদান ভালোভাবে মিক্সড করে কোন স্প্রে বোতলে নিতে হবে। পানি দিয়ে প্রথমে মুখ ধোয়ার পর এই স্প্রে বোতল থেকে ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে ত্বকে ১০ থেকে ১২ বার স্প্রে করতে হবে। তারপর হালকা হাতে ত্বকে মেসেজ করতে হবে।

এই প্রসেসটি পুনরায় করতে হবে অর্থাৎ বোতল থেকে মিশ্রণটি ত্বকে স্প্রে করতে হবে। আবার আলতো হাতে ত্বকে মেসেজ করতে হবে। এবার একটি কটন প্যাডে নিয়ে ত্বকে আলতো ভাবে ঘষতে হবে। এর ফলে ত্বকে থাকা সমস্ত ময়লা, তেল, জীবাণু ত্বকের গভীর থেকে পরিষ্কার হয়ে যাবে। 

এরপর ৫ থেকে ৬ মিনিট ত্বকে মিশ্রণটি রাখতে হবে। তারপর পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে নিলেই ত্বক ফেসিয়ালের পরবর্তী ধাপের জন্য একদম রেডি।

চালের পানি তৈরির পদ্ধতি জানুন

চালের পানি তৈরি করার জন্য আমাদের লাগবে হাফ কাপ চাল। এই চাল ভালোভাবে কোচলিয়ে তিনবার ধুয়ে নিতে হবে, যাতে চালে থাকা সব ধরনের ময়লা বের হয়ে চলে যেতে পারে। এই পরিষ্কার চাল গুলো চালের থেকে ডাবল পানিতে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে।

৪ ঘণ্টা পর আপনারা যে হালকা ঘোলাটে পানি বা হালকা দুধের মত সাদা পানি পাবেন সেটাই হলো চাল ধোয়ার পানি। যা আমরা আমাদের এই ফেসিয়ালের ব্যবহার করব। এছাড়া এই চালের পানি আপনারা অন্য সময়ও ত্বকে ব্যবহার করতে পারবেন।

চালের গুড়া দিয়ে স্ক্রাব

ফেসিয়ালের দ্বিতীয় ধাপে আমাদের ত্বককে ডিপ ক্লিনজিং এর জন্য স্ক্রাব করতে হবে। যাতে ত্বকের লোমকূপের ভিতর থাকা সমস্ত ময়লা জীবাণু বের হয়ে আসতে পারে। ত্বকে থাকা হোয়াইটহেড এবং ব্ল্যাকহেড সবকিছু দূর হতে পারে। এজন্য দরকার আমাদের একটি স্ক্রাব তৈরি করা।

এই স্ক্রাব তৈরির জন্য আমাদের লাগবে চালের গুড়া এবং এলোভেরা জেল। এলোভেরা জেল আপনি গাছ থেকে সংরক্ষণ করতে পারেন অথবা বাজারের যেকোনো ভালো মানের এলোভেরা জেল নিতে পারেন। এই স্ক্রাবটি খুব মৃদু হোওয়ায় যে কোন ধরনের ত্বকে ব্যবহার করতে পারবেন কোন সমস্যা ছাড়াই। এমনকি খুব সংবেদনশীল ত্বকেও ব্যবহার করতে পারবেন।

একটি পরিষ্কার কাচের বাটিতে এক চামচ চালের গুড়া এবং এক চামচ এলোভেরা জেল নিয়ে ভালোভাবে মিক্সড করতে হবে। তারপর মুখ হালকা ভিজিয়ে মিশ্রণটি পুরো ত্বকে ভালোভাবে লাগাতে হবে। এরপর সার্কুলার মোসনে হালকা ভাবে মেসেজ করতে হবে। বিশেষ করে কপাল, নাকের চারপাশ ইত্যাদি ভালোভাবে মেসেজ করতে হবে যাতে হোয়াইটহেড, ব্ল্যাকহেড সব দূর হতে পারে।

স্ক্রাব টি ত্বকে ৫ থেকে ৬ মিনিট ভালোভাবে আলতো ভাবে ম্যাসাজ করতে হবে। তারপর স্প্রে বোতলে থাকা চালের পানি এবং রোজ ওয়াটারে পানিটি স্প্রে করতে হবে। আবার দুই থেকে তিন মিনিট  মেসেজ করে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। ফেসিয়ালের এই পর্যায়ে আপনার ত্বক হবে অনেক উজ্জ্বল এবং ঝকঝকে।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্য ফেস মাস্ক

এটি ফেসিয়ালের শেষ পর্যায়ে। স্ক্রাবিং এর ফলে ত্বকে যে পোরসগুলোর মুখ খুলে গিয়েছে তা বন্ধ করার জন্য এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখার জন্য এই ফেসপ্যাকটি ব্যবহার করতে হবে। এই ফেস মাস্ক তৈরির জন্য আমাদের লাগবে তিনটি উপাদান।

  • এক চা চামচ চালের গুড়া
  • এক চা চামচ মধু 
  • এক চা চামচ দই

সবগুলো উপাদান ভালোভাবে মিশিয়ে ত্বকে ব্রাশের সাহায্যে বা আঙ্গুলের সাহায্যে ভালোভাবে লাগাতে হবে। ত্বকে মিশ্রণটি লাগানোর ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর চালের গুড়া চালের পানি এবং রোজ ওয়াটার মিশ্রিত বোতল থেকে মুখে স্প্রে করতে হবে। এরপর আলতোভাবে ৫ থেকে ৬ মিনিট মুখে ম্যাসাজ করতে হবে। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

ত্বক-পরিচর্যায়-চালের-গুড়া

চালের গুড়া দিয়ে এই ফেসিয়ালটি সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযোগী। কারণ এখানে সব প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, যা সব ধরনের কেমিক্যাল মুক্ত। ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্য এবং তা দীর্ঘ সময়ের জন্য ধরে রাখতে এই ফেসিয়ালটি আপনারা ১৫ দিনে একবার করতে পারেন। এছাড়া চাইলে সপ্তাহে একবার করতে পারবেন।

চালের গুঁড়ো মুখে দিলে কি হয়

চালের গুঁড়ো মুখে দিলে কি হয় তা এই পর্যায়ে জেনে নিন। ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে, ত্বককে জেল্লাদার করতে চালের গুড়া ব্যবহার ত্বক সচেতন মানুষের কাছে দিন দিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কারণ বর্তমানে রূপচর্চার জন্য সবাই এমন কিছু উপাদান খোঁজে যা প্রাকৃতিক এবং সব রকম কেমিক্যাল মুক্ত।

রূপচর্চায় এমন একটি উপাদান হলো চালের গুড়া। ত্বক পরিচর্যায় চালের গুড়ার ফেস মাস্ক ব্যবহারে পেতে পারি দাগ মুক্ত উজ্জ্বল ত্বক ত্বক। চালের গুড়া দিয়ে নিজের ত্বকের যত্ন নিতে চান অনেকে। 

নিচে জেনে নিন চালের গুড়া মুখে দিলে কি হয় সে সম্পর্কেঃ

  • চালের গুড়ায় রয়েছে প্রচুর ভিটামিন বি। আর এই ভিটামিন বি ত্বকের উপরিভাগের মৃত কোষগুলোকে সরাতে সাহায্য করে এবং নতুন কোষ তৈরিতে সহায়তা করে থাকে। ফলে ত্বক হয় টানটান এবং উজ্জ্বল।
  • চালের গুড়ায় রয়েছে উচ্চমানের পি এ ,বি এ। এই উপাদানটি সানস্ক্রিন হিসেবে খুব ভালো কাজ করে। তাই চালের গুড়া নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে মুক্ত থাকে।
  • চালের গুড়া তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারী যারা তাদের ত্বকের অতিরিক্ত সিবাম উৎপাদন রোধ করতে সহায়তা করে। ফলে ত্বক থাকে ব্রণ মুক্ত এবং ঝকঝকে।
  • চালের গুড়ায় রয়েছে টাইরোসিনিস উপাদান। এই প্রাকৃতিক উপাদান ত্বকের মেলানিন উৎপাদন কমিয়ে ত্বককে কালো হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। তাই ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে চালের গুড়া ব্যবহার করতে পারেন নিশ্চিন্তে।
  • চালের গুড়ায় রয়েছে এলান টইন নামক উপাদান। এই উপাদান ত্বকের সানবার্ন দূর করে এবং ত্বককে করে তুলে দাগমুক্ত এবং ঝকঝকে।
  • চালের গুড়া নিয়মিত ব্যবহার ত্বকে কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়, ফলে ত্বক ঝুলে পড়া থেকে রক্ষা করে এবং ত্বক থাকে টানটান, যেমনটি আপনি চান।

ত্বকের জন্য কোন চালের গুড়া ভালো

চালের গুড়া দিয়ে ত্বককে জ়েল্লাদার করতে, ত্বকের দাগ ছোপ দূর করতে,ত্বকের হারিয়ে যাওয়া উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে আমরা বিভিন্ন ধরনের ফেস মাস্ক বা বিভিন্নভাবে চালের গুড়া ব্যবহার করে উপকার পেতে পারি। এজন্য ত্বকে ব্যবহারের জন্য চালের গুড়া আমরা সব ধরনের ভালো মানের পরিষ্কার চাল থেকে তৈরি করা নিতে পারি।

আরো পড়ুনঃ ঢেঁকিছাটা  লাল চালের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানলে অবাক হবেন

তবে আতপ চালের গুড়া ত্বকের জন্য বেশি ভালো হবে। এই চালের গুড়া আপনি বাজার থেকে কিনে আনতে পারেন অথবা নিজেই ঘরে তৈরি করতে পারেন। অনেক সময় ঘরেই থাকে আমাদের রূপচর্চার জন্য দরকারি চালের গুড়া। আপনি চাইলে এই চালের গুড়া দিয়েও আপনার ত্বক পরিচর্যা করতে পারেন নিয়মিত।

চালের গুড়ার অপকারিতা আছে কি

চালের গুড়ার অপকারিতা আছে কিনা এ সম্পর্কে অনেকেই জানতে চান। চালের গুড়ায় থাকা বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান আমাদের ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। তাছাড়া এটি প্রাকৃতিক এবং সহজলভ্য হওয়ায় সহজে আমরা রূপচর্চায় এই উপাদানটি ব্যবহার করতে পারি। ত্বক পরিচর্যায় চালের গুড়ার ৫টি কার্যকরী মাস্ক সম্পর্কে আপনারা উপরে জেনেছেন।

তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে উপকারী এই চালের গুড়া কারো জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যেমনঃ

  • যাদের চালের গুড়ায় এলার্জি রয়েছে তাদের চালের গুড়া ত্বক পরিচর্যায় ব্যবহার না করাই ভালো হবে। কারণ এতে ত্বকে র‍্যাশ হতে পারে, ত্বক চুলকাতে পারে এবং ফুলে যেতে পারে।
  • অনেক পুরনো চালের গুড়া ত্বকে ব্যবহার না করাই ভালো হবে। এতে উপকার চেয়ে অপকারিতাই বেশি বয়ে আনবে।
  • আবার যাদের  অনেক বেশি ব্রণের সমস্যা আছে তাদেরও চালের গুড়া ব্যবহারে সাবধান থাকতে হবে।
  • এছাড়া খুব বেশি শুষ্ক ত্বক হলে চালের গুড়া খুব পরিমিত ভাবে রূপচর্চায় রাখতে হবে।

পরিশেষে

ত্বক পরিচর্যায় চালের গুড়ার ৫টি মাস্ক সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলে আলোচনা করেছি। বর্তমানে চালের গুড়া দিয়ে ত্বক পরিচর্যা করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি সহ, ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে, ত্বককে দাগ মুক্ত এবং টানটান করতে চালের গুড়ার ব্যবহার অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কারণ চালের গুড়া ত্বকের জন্য বিভিন্ন উপকারী প্রাকৃতিক উপাদান সমৃদ্ধ।

তাই প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে যারা ত্বকের যত্ন নিতে চান তাদের কাছে এটি আশীর্বাদ। আপনি আপনার ত্বক পরিচর্যার রুটিনে চালের গুড়া রাখতে পারেন রূপচর্চার একটি অন্যতম অংশ হিসেবে। চালের গুড়া যেহেতু প্রাকৃতিক উপাদান, তাই এটি কোনো রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই আপনার ত্বককে করবে দারুন জেল্লাদার।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

passiondrivefiona র নীতিমালা মেনে comment করুন। প্রতিটি comment রিভিউ করা হয়;

comment url