৩ দিনে স্থায়ী ফর্সা হওয়ার উপায় জেনে নিন
৩ দিনে স্থায়ী ফর্সা হওয়ার উপায় নিয়ে আজকের আর্টিকেলে আলোচনা করতে চলেছি। আপনি যদি নিজের ত্বক ফর্সা এবং উজ্জ্বল করতে চান, তাহলে আজকের আর্টিকেলে উল্লেখিত ঘরোয়া উপায় গুলো ব্যবহার করলে শতভাগ ফলাফল পাবেন। এছাড়া স্থায়ীভাবে ফর্সা করবে যে খাবার গুলো সে সম্পর্কেও জানতে পারবেন।
পোস্ট সূচীপত্রঃযাদের ত্বকের রং কালো তারা প্রায়ই ভাবেন যদি ত্বক আরেকটু ফর্সা হত। নিয়মিত সঠিক পরিচর্যা এবং খাদ্যাভ্যাসসহ সুস্থ জীবন যাপনের মাধ্যমে ত্বক অনেকটাই ফর্সা এবং উজ্জ্বল করা সম্ভব। তাই আপনার যদি ত্বক কালো হয়ে থাকে এবং আপনি আপনার ত্বক তিন দিনে স্থায়ী ভাবে ফর্সা করার উপায় খুঁজে থাকেন তাহলে ঠিক জায়গায় এসেছেন।
৩ দিনে স্থায়ী ফর্সা হওয়ার উপায়
৩ দিনে স্থায়ী ভাবে ফর্সা হওয়ার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে আর্টিকেলের শুরুতে আপনাদের জানাবো। আমরা সবাই চাই ফর্সা, সুন্দর ত্বক। কারণ ফর্সা মুখের কদর সব জায়গায়ই বেশি। প্রকৃতিগতভাবে যাদের ত্বকের রং ফর্সা তারা সত্যিই অনেক ভাগ্যবান কিন্তু তাই বলে যে ডার্ক স্কিনের অধিকারীরা মন খারাপ করবেন এমনটা নয়।
কারণ একজন মানুষের মন সুন্দর হলে সে এমনিতেই সুন্দর হয়ে যায়। তাছাড়া প্রকৃতি সবাইকে সুন্দর করে তৈরি করেছেন। তবুও আমাদের যাদের ত্বকের রং কালো তারা বিভিন্ন উপায় খুঁজে থাকি ফর্সা হওয়ার। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রং ফর্সাকারী ক্রিমের এজন্যই চাহিদা বেশি।
আরো পড়ুনঃ কোন ভিটামিন খেলে ত্বক উজ্জ্বল এবং ফর্সা হয়
এসব রং ফর্সাকারী ক্রিম সাময়িকভাবে আপনার মুখের রং ফর্সা করলেও অনেক সময় তা স্থায়ী হয় না। আবার এসব ক্রিমের কেমিক্যাল এর জন্য দেখা দেয় বিভিন্ন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। এজন্যই স্থায়ীভাবে আপনার মুখ সহ সারা শরীরের রং ফর্সা করতে প্রাকৃতিক এবং ঘরোয়া উপায় গুলি বেশি কার্যকরী।
যারা প্রাকৃতিক এবং ঘরোয়া ভাবে ৩ দিনে স্থায়ীভাবে ফর্সা হওয়ার উপায় খুঁজছেন, তাদের জন্য আজকের এই পোস্টটি উপকারে আসবে আশা করি। কারণ এই পোস্টে স্থায়ী ভাবে ফর্সা হওয়ার ১২টি উপায় বর্ণনা করেছি যে উপায় গুলো সত্যিই আপনার ত্বককে ফর্সা করতে কাজ করবে।
ফর্সা হতে ব্যবহার করুন কাঁচা হলুদ
শুধু এক গ্লাস দুধ ও আধা চা চামচ কাঁচা হলুদ আপনাকে প্রাকৃতিকভাবে কতটা ফর্সা করতে পারবে তা জানেন! বেশি কিছু না শুধু আপনার দুধের পাতিলে হাফ চা চামচ কাঁচা হলুদ মিশিয়ে ফুটিয়ে কুসুম গরম অবস্থায় খেয়ে ফেলুন। এভাবে শুধু হলুদ খেতে না পারলে মধুও মিশাতে পারেন চাইলে। কাচা হলুদ মিশাতে চান না?
হলুদ দুধ বানানোর আরেকটি নিয়ম জেনে নিন, এক গ্লাস দুধে দেড় ইঞ্চির একটা কাঁচা হলুদ টুকরো টুকরো করে কেঁটে দুধে দিয়ে তা ফুটিয়ে দিন। দুধ গাড় রং হলে কুসুম গরম অবস্থায় দুধটুকু পান করুন। এই হলুদ দুধ ভেতর থেকে আস্তে আস্তে আপনাকে ফর্সা করে তুলবে।
হলুদ টপিকেলি রূপচর্চায়েও আমরা ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু কিভাবে ব্যবহার করলে ত্বকের রং ফর্সা হবে তা হয়তো জানি না! তাহলে জেনে নিন, হলুদ বাটা, দুধ ও লেবুর রস মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে প্রতিদিন গোসলের আগে নিয়ম করে মুখে লাগান। শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।
তারপর আলতোভাবে মুখ মুছে নিয়ে হালকা কোন মশ্চারাইজার লাগান, নিয়ম করে দুই থেকে তিন দিন এই মাস্ক ব্যবহারে আপনার মুখের রং ফর্সা হতে শুরু করবে। এবং নিয়মিত ব্যবহারে এই ফর্সা রং আপনার স্থায়ী হবে। তবে কিছু শর্তাবলি আছে। এক্ষেত্রে ১২ ঘন্টা পর্যন্ত রোদে এবং তাপে কোনভাবেই যাওয়া যাবে না।
আরেকটি উপায় জেনে নিন, চার টেবিল চামচ মধুর সাথে দুই টেবিল চামচ কাঁচা হলুদ বাটা মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। এরপর এই মিশ্রণ আপনার মুখে লাগিয়ে রেখে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই মিশ্রণটি আপনি আপনার সারা শরীরেও লাগাতে পারবেন। নিয়মিত তিন থেকে চার সপ্তাহ এই মিশ্রণটি ব্যবহার করুন ফলাফলটি আপনি নিজের চোখেই দেখতে পাবেন।
৩ দিনে ফর্সা হতে সহায়তা করবে লেবু
মাত্র তিন দিনে ফর্সা হওয়ার দারুন কার্যকরী ঘরোয়া একটি উপাদান হল লেবু। এখন জানতে পারবেন লেবু দিয়ে স্থায়ীভাবে ফর্সা হওয়ার উপায় সম্পর্কে। প্রথমে একটি লেবু থেকে ২ চা চামচ রস বের করে নিন। এরপর ১ চা চামচ পানিতে মিশিয়ে নিন। তারপর যে মিশ্রণটি তৈরি হবে সেটি আপনার ত্বকের বিভিন্ন দাগ থাকা জায়গায় লাগিয়ে নিন।
আরো পড়ুনঃ ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করবে কিসমিস
তবে লেবু আপনার ত্বকে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ঘটাবে কিনা এটা জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এর টেস্ট আপনি করতে পারবেন আপনার কানের পেছনে বা গলায় মিশ্রণটি মেখে দেখে নিবেন। যদি ত্বক চুলকায় বা লাল লাল র্যাশ বের হয় তাহলে এই রেমেডি আপনার জন্য উপযুক্ত নয়। কারণ অনেকেরই লেবু ত্বকে এলার্জি সৃষ্টি করতে পারে।
এরকম আরেকটি বিকল্প উপার হচ্ছে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে ফর্সা হওয়া। আপনার যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু পরিমাণ মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন এবং নিয়ম করে প্রতিরাতে পরিষ্কার মুখে মিশ্রণটি লাগান। এতে করে বেশি দিন না ৩ দিনের মধ্যেই আপনি ফর্সা হতে শুরু করবেন।
বলা যেতে পারে, এটি একটি বেশ কার্যকরী উপায়। এর মত আরেকটি কার্যকরী উপায় হল এক চামচ গোলাপ জলে এক চামচ দুধ এবং ২-৩ ফোঁটা লেবুর রস দিয়ে তৈরি মিশ্রণ মুখে মেখে। এতে করে আপনার মুখের উজ্জ্বলতা বাড়বে। কয়েকদিনের মধ্যেই ফলাফল দেখতে পাবেন।
এছাড়াও এক চামচ লেবুর রস এবং এক চামচ চিনি মিশিয়ে হাত পায়ে ম্যাসাজ করতে পারেন। চাইলে আপনি এই মিশ্রণে মধু দিতে পারেন। ভিটামিন সি ত্বকের সব দাগ দূর করে ত্বককে স্বচ্ছ, উজ্জ্বল ও শুষ্কতা থেকে রক্ষা করতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। লেবু এই ভিটামিন সি এর একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
তিন দিনে স্থায়ী ফর্সা হতে ব্যবহার করুন দুধ
দুধ ও মধু দিয়েও খুব সহজে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এর মাধ্যমে ফর্সা হওয়া যায়। এক টেবিল চামচ দুধ ও এক চা চামচ মধু ভালো করে মিশিয়ে নিন। এরপর যে মিশ্রণটি তৈরি হবে সেটি আপনি মুখে ১৫ মিনিটের মতো লাগিয়ে রাখতে পারেন।
এরপর ভালো করে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিবেন। নিয়মিত এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন। কিছুদিনের মধ্যেই আপনার ত্বক অনেকটা ফর্সা ও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। দুধ একটি প্রাকৃতিক উপাদান যা ত্বকের রং অনায়াসে ভেতর থেকে হালকা করতে পারে।
দুধ যেমন খেয়ে উপকার পাবেন, তেমনি মেখেও উপকার পাবেন। তাছাড়াও বাহ্যিকভাবে ত্বকের আর্দ্রতা ও মসৃণ করতে দুধের বেশ কার্যকরীতা রয়েছে।
তিন দিনে ত্বক ফর্সা করবে মসুর ডাল
মাত্র ৩ দিনে স্থায়ী ভাবে ফর্সা হওয়ার উপায় হলো মসুর ডাল। ত্বকের জন্য একটি দুর্দান্ত প্রাকৃতিক উপাদান মসুর ডাল। মসুর ডাল এমন একটি প্রাকৃতিক উপাদান যা নিয়মিত কয়েকদিন ব্যবহারে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির সাথে সাথে ত্বক ফর্সা করবে এবং ত্বক থেকে বিভিন্ন ধরনের দাগ ছোপ দূর করবে। এজন্য আপনাকে মসুর ডাল দিয়ে তৈরি একটি ফেস মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
মসুর ডালের এই ফেস মাস্ক টি তৈরি করতে লাগবে- দুই চা চামচ মসুর ডালের পেস্ট, হাফ চা চামচ মধু, এক চা চামচ গরুর কাঁচা দুধ বা টক দই। চাইলে আপনি এখানে দুই তিন ফোঁটা লেবুর রস মিক্সড করতে পারেন। সবগুলো উপাদান ভালোভাবে মিক্স করে গোসলের আগে সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন মুখ এবং গলায় লাগান।
ফেস মাস্ক টি শুকিয়ে গেলে নরমাল পানি দিয়ে আলতো ভাবে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। গোসলের পর হালকা কোন মশ্চারাইজার ত্বকে এপ্লাই করুন। এক সপ্তাহ নিয়মিত ব্যবহারে আপনার ত্বক ফর্সা হতে শুরু করবে। ঘরোয়া এই উপায়টি এতটাই কার্যকরী যে আমাদের দাদী নানির সময় থেকেই এই উপায়টি আস্থার সাথে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
৩ দিনে ফর্সা ত্বক পেতে ব্যবহার করুন টমেট
আপনি যদি ৩ দিনে আপনার ত্বক স্থায়ীভাবে ফর্সা এবং উজ্জ্বল করতে চান তাহলে টমেটো ব্যবহার করুন। এজন্য দুইটি টমেটো ব্লেন্ড করে তার থেকে যে পরিমাণ রস বের হবে তা ২ চা চামচ লেবুর রসের সাথে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি আপনি গোসল করার আগে ২০ মিনিটের মত মুখ এবং গলায় লাগিয়ে রাখবেন।
২০ মিনিট পর পর পরিষ্কার পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে মুখের যে কোন দাগ এবং রোদের কারণে যে দাগ রয়েছে সেগুলো দূর হয়ে যাবে। এছাড়া টমেট এবং লেবুর এই মিশ্রণ ত্বকের ডেড সেলস দূর করতে এবং ত্বকের আর্দ্রতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
৩ দিনে ফর্সা ত্বক পাওয়ার উপায় টক দই
৩ দিনে ফর্সা হওয়ার আরেকটি কার্যকরী উপায় টক দই এর ব্যবহার। এজন্যদুই টেবিল চামচ টক দই ও এক চা চামচ মধু ভালো করে মিশিয়ে নিন। এরপর ত্বকের যে জায়গায় এই মিশ্রণটি লাগাবেন সেই জায়গাটি ধুয়ে ফেলুন বা পরিষ্কার করুন। অর্থাৎ এই মিশ্রণটি পরিষ্কার ত্বকে লাগাতে হবে। তবে এই মিশ্রণটি ত্বক সহ শরীরের যে কোনো জায়গায় লাগানো যাবে।
টকদই আমাদের ত্বকের গভীর থেকে ময়লা দূর করে পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। এর ফলে খুব সহজেই দ্রুতই ফর্সা হওয়া সম্ভব। এছাড়াও টক দই খেলেও ত্বকের রয়েছে অনেক উপকার।
আরেকটু উপায় জেনে নিন, আপনার যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু পরিমাণে টক দই, দুধ এবং লেবুর রস মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। এরপর আপনার ত্বকে যেখানে দাগ, কালচে ভাব বা পোড়া ভাব রয়েছে সেখানেই মিশ্রণটি ব্যবহার করুন। অন্তত ১৫ মিনিট মিশ্রণটি মেখে ওভাবেই রেখে দিবেন।
১৫ মিনিট পর পরিষ্কার পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে ফেলুন। কয়েকদিন ব্যবহারই আপনার কালচে দাগ দূর হতে শুরু করবে।
ফর্সা হতে যষ্টি মধু ও চন্দনের গুড়ার ব্যবহার
যষ্টি মধুর গুড়া (Licorice root powder) এবং চন্দন কাঠের গুড়া (Sandalwood powder) ব্যবহারে খুব সহজেই ৩ দিনে চিরস্থায়ী আপনার স্কিন ডার্ক থেকে লাইট হয়ে যাবে। স্থায়ীভাবে ফর্সা হতে যষ্টিমধুর গুঁড়ো এবং চন্দন কাঠের গুঁড়ো মিশিয়ে নিয়মিত ব্যবহার করতে পারেন। আপনি স্কিনের যে কোন জায়গায় এই মিশ্রণটি লাগাতে পারবেন।
মিশ্রণটি বানানো খুবই সহজ, আপনি পরিমাণ মতো যষ্টিমধুর গুড়া এবং পরিমাণ মতো চন্দন কাঠের গুড়া নিয়ে তাতে পরিমাণ মতো পানি দিয়ে মিশ্রণটি তৈরি করে ফেলুন। আপনার উপর নির্ভর করে যে আপনার কতটুকু পরিমাণের মিশ্রনের প্রয়োজন রয়েছে। এই দুটি উপকরণ পাওয়া একটু কঠিন তবে ঢাকার বিভিন্ন বড় বড় বাজারে এগুলো সহজে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৩ দিনে ফর্সা উজ্জ্বল ত্বক দিবে চালের গুড়া
জানেন কি চালের গুড়া ব্যবহার করে ত্বক স্থায়ী ভাবে ফর্সা এবং উজ্জ্বল করা সম্ভব! যদি না জেনে থাকেন তাহলে আজকেই জেনে নিন। চালের গুড়ায় রয়েছে Tyrosinase নামক উপাদান যা ত্বকের অতিরিক্ত মেলানিন উৎপাদন থেকে ত্বককে রক্ষা করে, ফলে চালের গুড়া ব্যবহারে ত্বক দিন দিন ফর্সা এবং উজ্জ্বল হতে থাকে।
এছাড়া চালের গুড়ায় থাকা Allantoin নামক উপাদান ত্বক থেকে সান বার্ন দূর করতে বিশেষ কার্যকরী। এছাড়া আপনার ত্বক যদি কোন কারণে ড্যামেজ হয়ে থাকে তাহলে রিপেয়ারের কাজটিও করবে এই চালের গুড়া। এছাড়া ত্বকের কোলাজেন তৈরিতে এবং ত্বককে বুড়িয়ে যাওয়ার হাত থেকেও রক্ষা করে এই চালের গুড়া।
তাহলে এখন জেনে নিন চালের গুড়া ব্যবহার করে স্থায়ী ভাবে ফর্সা হওয়ার উপায়-
- দুই চা চামচ চামচ চালের গুড়া
- হাফ চা চামচ হলুদের গুড়া
- ২ চা চামচ চামচ টক দই
- হাফ চা চামচ মধু
ত্বক ফর্সা, দাগ মুক্ত করবে অ্যালোভেরা এবং ই ক্যাপ
তিন দিনে স্থায়ী ফর্সা হতে সহায়তা করবে কলা
ফর্সা ত্বক পেতে ব্যবহার করুন পাকা পেঁপে
তিন দিনে ফর্সা ত্বক পাবেন কফি মাস্ক ব্যবহারে
স্থায়ী ভাবে ফর্সা করবে যে খাবার গুলো
প্রিয় পাঠক, স্থায়ী ভাবে ত্বক ফর্সা করতে যে খাবার গুলো বিশেষ ভূমিকা পালন করে সে সম্পর্কে এখন আলোচনা করব। ৩ দিনে স্থায়ী ফর্সা হওয়ার উপায় সম্পর্কে উপরে আলোচনা করেছি। আপনি যদি স্থায়ী ভাবে ফর্সা হতে চান সেটাও আবার ৩ দিনে তাহলে আপনার প্রতিদিনের খাবারের দিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে।
এমন কিছু খাবার রয়েছে যে খাবার গুলো প্রতিদিন আপনার ডায়েটে রাখার মাধ্যমে স্থায়ীভাবে ফর্সা হওয়ার কাজটি দ্রুত করতে পারেন। তাহলে চলুন জেনে নিই দ্রুত ত্বকের রং কালো থেকে ফর্সা হওয়ার জন্য যে খাবার গুলো বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
অনেক ফল আছে যা খেলে ত্বক ফর্সা হয় এর সাথে বিভিন্ন দাগ দূর হয়। এর একটি অন্যতম উদাহরণ হল আমলকি। আরেকটি পরিচিত খাবার হলো ডিম। আমরা অনেকে এখনো জানি না যে ডিম খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
আবার আমরা এটাও জানি না যে টমেটো, পালং শাক এবং মিষ্টি আলুও আমাদের গায়ের রং ফর্সা করতে ভূমিকা পালন করে। ত্বককে উজ্জ্বল এবং টানটান করতে বিটরুট এর জুড়ি মেলা ভার। দুধ, ছানা আর টক দইও ত্বক ফর্সা করতে সক্ষম। কেননা এইসব খাবারে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে। আর এন্টি অক্সিডেন্ট ত্বকের ফর্সা ভাব নিয়ে আসতে সাহায্য করে।
প্রতিদিন পাকা পেঁপে খেলে আপনি অনেক উপকার দেখতে পাবেন। নিয়মিত পাকা পেঁপে খান এবং খেয়াল করুন কিছুদিনের মধ্যেই পেঁপে খাওয়ার ফলে আপনার মুখে উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বিভিন্ন দাগ দূর হয়ে যাচ্ছে। কেননা পেঁপেও আমাদের ফর্সা হতে সহায়তা করে।
এতে রয়েছে ভিটামিন এ যা আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতার জন্য প্রয়োজন। পেঁপে ছাড়াও নিয়মিত খেতে হবে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ দেশি টাটকা ফল। এর মধ্যে পেয়ারা অন্যতম।
আরো পড়ুনঃ ত্বক ফর্সা এবং উজ্জ্বল করবে দেশে এই আটটি ফল
নিয়মিত গ্রিন টি খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন। গ্রিনটিতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আপনাকে ফর্সা হতে সাহায্য করবে। গ্রিন টি আপনার ত্বক ভিতর থেকে ফর্সা করে। এজন্য এটি বেশ উপকারী বলা চলে। এছাড়াও আপনি শসা খেতে পারেন। কেননা শসা ত্বকে প্রশান্তি এনে দেয়। এছাড়া ত্বককে উজ্জ্বল এবং ফর্সা করতে সকালে খালি পেটে লেবু পানিসহ আরো পাঁচটি পানীয় পান করতে পারেন।
স্থায়ী ভাবে ফর্সা ত্বক পেতে রোদকে না বলুন
স্থায়ী ভাবে ফর্সা হওয়ার আরো কিছু উপায়
৩ দিনে স্থায়ী ফর্সা হওয়ার উপায় গুলো যেমন নিয়মিত ব্যবহারে উপকার পাবেন তেমনি আরো কিছু সহজ উপায় এই পয়েন্টে আলোচনা করব। আপনারা যদি নিচে উল্লেখিত উপায় গুলো নিয়মিত অনুসরণ করেন, তাহলে সহজে পেতে পারেন ফর্সা, উজ্জ্বল এবং ঝকঝকে ত্বক।
- সকালে উঠে নিয়মিত খালি পেটেই এক গ্লাস হালকা কুসুম গরম পানিতে একটি লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন। আপনি চাইলে মধুও মিশাতে পারেন। এক সপ্তাহের মাথায় নিজেই লক্ষ্য করবেন যে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা ধীরে ধীরে বাড়ছে।
- আপনি আপনার মুখে উজ্জ্বলতা বাড়াতে স্টিম করতে পারেন-- যাকে বলে খুব গরম পানি বাষ্প মুখে লাগানো। তবে খেয়াল রাখবেন আপনার মুখে যেন খুব বেশি তাপ না লাগে। তা না হলে ক্ষতিও হতে পারে। ৭ মিনিট স্টিম করবেন এরপর কোন টিস্যু বা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুখ মুছে ফেলবেন।
- একটি পাকা টমেটো নিন। পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলুন। টমেটো দুই ভাগে স্লাইস করুন। এরপর এক ভাগ নিন। এরপর এই এক ভাগ টমেটোর যে মাঝখানের অংশ রয়েছে সেখানে ছুরি দিয়ে বা টুথপিক দিয়ে এমন ভাবে গর্ত করার চেষ্টা করুন যাতে, যখন আপনি এর উপর মধু দিবেন তখন যেন মধুটি ভালো মতে টমেটোর সাথে মিশতে পারে। মধু দেওয়া হয়ে গেলে আপনি তা আপনার মুখে রাব করুন। কিছুক্ষণ রাব করার ১৫ মিনিট পর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
- শসা, বেসন এবং মধু একসাথে মিক্সড করে আপনি ফেস মাস্ক হিসেবে নিয়মিত ব্যবহার করতে পারেন। এই ফেস মাস্কটি স্থায়ীভাবে ফর্সা হওয়ার দারুন একটি উপায়।
- রূপচর্চায় কমলা ব্যবহার করা একটি বুদ্ধিমান কাজ। কেননা বেশিরভাগ ভিটামিন সি সম্পন্ন খাবার রূপচর্চায় বেশ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে কমলালেবুর খোসা শুকিয়ে গুঁড়ো করে একটি পরিষ্কার জারে সংরক্ষণ করুন। সপ্তাহে দুই দিন এক চা চামচ এই গুড়োর সাথে হাফ চা চামচ মধু এবং পরিমাণ মতো দুধ দিয়ে পেস্ট তৈরি করে আপনার ত্বকে লাগান। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই ফেস মাস্কটিও আপনার ত্বকের রং স্থায়ীভাবে ফর্সা এবং উজ্জ্বল করতে দারুন কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
- সূর্য থেকে আসে ইউভি রে প্রতিরোধ করতে পারে বাদাম। তাই বলে যে আপনি সানস্ক্রিম না মেখে বাদাম খাওয়া শুরু করে দেবেন তা নয়। দুটোই করবেন।
- ফর্সা ত্বক পেতে প্রতিদিন নিয়ম করে ৩০ মিনিট থেকে এক ঘন্টা ব্যায়াম করার অভ্যাস তৈরি করতে হবে।
- আপনি যদি স্থায়ীভাবে আপনার ত্বক ফর্সা করতে চান তাহলে উপরোক্ত নিয়মগুলো মেনে চলার সাথে সাথে আপনার প্রতিদিনের ডায়েট ঠিক রাখতে হবে এবং কিছু কাজ আছে যেগুলো আপনাকে অবশ্যই বাদ দিতে হবে। যেমনঃ
- অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, জাঙ্ক ফুড, তেল মসলা জাতীয় খাবার ডায়েট থেকে বাদ দিতে হবে
- ধূমপান এবং অ্যালকোহল পরিহার করতে হবে
- যথাসম্ভব রোদে না যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে
- দুশ্চিন্তা এবং মানসিক চাপ দূর করতে হবে
- রাত জাগার অভ্যাস থাকলে তা পরিত্যাগ করতে হবে
passiondrivefiona র নীতিমালা মেনে comment করুন। প্রতিটি comment রিভিউ করা হয়;
comment url